সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সায়েম, যুক্তরাজ্য থেকে।
দীর্ঘদিনের তীব্র গরম, শুষ্ক আবহাওয়া ও বৃষ্টির ঘাটতির পর গত দু’দিন ধরে হালকা বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে লন্ডনে। টানা খরায় শুকিয়ে যাওয়া পার্ক ও সবুজাঞ্চল, ধুলোময় রাস্তা এবং পানির সংকট নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই বৃষ্টি রাজধানীবাসী সহ সারা ইংল্যান্ডে কিছুটাসস্বস্তির বার্তা ফিরে এসেছে।
চলতি গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডে আবহাওয়ার চরম বৈপরীত্য দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে গত জুলাই মাস ছিল ইংল্যান্ডে রেকর্ড সংখ্যক শুষ্ক মৌসুম। জুলাই মাসে বৃষ্টিপাত হয়েছে গড়ে মাত্র দশ শতাংশ, যা স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের তুলনায় অনেক কম, যা মধ্য আগস্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছু নদীর পানিপ্রবাহে উন্নতি দেখা গেলেও বিশেষজ্ঞদের অভিমত এই বৃষ্টি দীর্ঘমেয়াদি খরা কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয়। দেশের একাত্তর শতাংশ ভূমি এখন পর্যন্ত খরা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
বৃষ্টির পর লন্ডনের তাপমাত্রাও কিছুটা কমেছে। ফলে প্রচন্ড গরমে হাঁসফাঁস করা মানুষের পাশাপাশি শহরের পার্ক ও বনাঞ্চলের গাছপালা কিছুটা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আবহওয়াবিদদের মতে দুই, এক দিনের বৃষ্টিতে দীর্ঘদিনের পানির ঘাটতি পূরণ হবে না। জলাধারগুলোর পানির স্তর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ধারাবাহিক ও পর্যাপ্ত বৃষ্টির প্রয়োজন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী সাম্প্রতিক বৃষ্টির পরও ইংল্যান্ডের খরা পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন হয় নি। জাতীয় খরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী কতৃপক্ষও জানিয়েছে, বৃষ্টির প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি হতে পারে এবং আবার শুষ্ক আবহাওয়া ফিরে এলে নদী ও জলাধারের পানির স্তর দ্রুত কমে যেতে পারে।
তাই লন্ডনবাসীর কাছে এই হালকা বৃষ্টি আপাতত স্বস্তির হলেও খরা অবসানের নয়, বরং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বৃষ্টির একটি আশাব্যঞ্চক বিরতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।