দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ছিনতাই হওয়া গাড়ি উদ্ধারের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার
“একজন শ্রমিক রাতের অন্ধকারে জীবিকার তাগিদে গাড়ি চালাতে গিয়ে যদি হাত-পা বেঁধে হত্যাচেষ্টার শিকার হন, তাহলে সেটি শুধু একজন চালকের ওপর হামলা নয়—সমগ্র শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তার ওপর আঘাত। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ হালকাযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং মৌলভীবাজার জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং: চট্ট: ২৩৫৯)-এর সভাপতি আজিজুল হক সেলিম।
মৌলভীবাজার জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত চাঁদনীঘাট শ্রমিক পরিচালনা ইউনিট কমিটির উদ্যোগে বুধবার (আজ) শহরের চাঁদনীঘাট এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রীবেশে ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। জীবিকার জন্য রাত-দিন পরিশ্রম করা শ্রমিকরা যদি নিরাপদে সড়কে চলাচল করতে না পারেন, তাহলে এটি আইন-শৃঙ্খলার জন্যও অশনিসংকেত। প্রশাসনকে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ছিনতাই হওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা দ্রুত উদ্ধার করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই রাতের বেলায় সড়কে টহল বৃদ্ধি, যাত্রী পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা এবং ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন চাঁদনীঘাট শ্রমিক পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেন, সহসভাপতি ফজল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক পারবেজ আহমেদ, সহসাধারণ সম্পাদক সুজেল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক পাবলু আহমেদ, মুস্তাকিম আহমেদ, সজ্জাদ মিয়া, দুলাল মিয়া, দেলোয়ার মিয়া, রিপন মিয়াসহ ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সিএনজি চালক।
অনুসন্ধানে যা জানা গেছে :
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার আশ্রাকাপন গ্রামের বাসিন্দা মো. ওয়াহিদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে চাঁদনীঘাট স্ট্যান্ড থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। গত ১৫ জুন রাতে তিনি মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে ৫০০ টাকা ভাড়ায় রাজনগরের কালারবাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য রিজার্ভ নেন।
কালারবাজারে পৌঁছানোর পর ওই ব্যক্তি আরও তিনজন পরিচিতকে একই গাড়িতে তুলে হলদিগুল এলাকায় যাওয়ার অনুরোধ করেন। কোনো সন্দেহ না করে ওয়াহিদ মিয়া তাদের নিয়ে নির্ধারিত স্থানের দিকে রওনা দেন।
রাত প্রায় ১০টার দিকে রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের হলদিগুল এলাকার একটি নির্জন স্থানে পৌঁছামাত্র চারজন দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে ওয়াহিদ মিয়ার ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে হাত-পা ও মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তার পাশের পানিতে ফেলে রেখে প্রায় সাত লাখ টাকা মূল্যের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
কিছু সময় পর স্থানীয় লোকজন পানির মধ্যে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওয়াহিদ মিয়াকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর সিএনজির মালিক মো. হেলালুর রহমান কোরাইশী রাজনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২৯ জুন রাজনগর থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় মামলা (নং-১২) রুজু করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে যাত্রী সেজে চালককে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়, মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে হত্যার উদ্দেশ্যে ফেলে রেখে সিএনজিটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, ঘটনার বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও ছিনতাই হওয়া সিএনজিটি উদ্ধার হয়নি এবং জড়িতদের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এতে চালকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে ছিনতাইকারী চক্রকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, ছিনতাই হওয়া গাড়ি উদ্ধার, আহত চালক ওয়াহিদ মিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সড়কে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।